সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

॥ কামরুল হাসান॥
আমাদের দেশে নদ-নদী সঠিকভাবে ড্রেজিং করা হয় না। ফলে প্রতিবছর নদী মরে গিয়ে খাল কিংবা চরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। নদীর সীমানা যেখানে আগে ছিল ১৫ বা ২০ কিলোমিটার, সেখানে এখন কয়েক কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ফলে নদীর সেই ঢালেই লাখ লাখ লোক বসবাস করছে। আরো সমস্যা হচ্ছে বন্যার পানি অনেক এলাকা ভেঙে নিচ্ছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে বিলীন হচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, রাস্তা, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বন্ধ রয়েছে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঢাকার আশপাশের এলাকায়ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) তথ্য মতে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদী সংলগ্ন গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এসব তথ্য আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের আসলে সেভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায়।গত ২৯ জুলাই শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টকশো সম্পাদকীয়তে আলোচনা করতে গিয়ে পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মু ইনামুল হক এসব কথা বলেন। সাংবাদিক মুজতবা দানেশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল ।মাকসুদ কামাল বলেন, প্রতিবছর আমাদের নদ-নদীগুলোর তলদেশ ভরে যাচ্ছে। নদী তাই তার নাব্যতা হারাচ্ছে। ফলে নদীগুলোর আশপাশের লোকজন সামান্য বন্যার পানিতেই তলিয়ে যাচ্ছে। তাই বন্যার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমাদের দেশের সরকার ও জনগণকে সব সময়ই রাখতে হবে। গত কয়েক দিনে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার কারণে লাখ লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্যোগে পড়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের পাশে আমাদের সবারই দাঁড়ানো উচিত।তিনি আরো বলেন, কয়েক দিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই বন্যার পানি বাড়ছে। টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের ১২টি নদ-নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বেড়েছে নদীভাঙন। নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১৩ লাখ মানুষ। বসতভিটা হারিয়ে খোলা মাঠে আর রাস্তার ধারে আশ্রয় নেওয়া মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। অনেক জায়গায় খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। ত্রাণের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে বন্যাদুর্গতরা। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। সরকারিভাবে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। কোনো কোনো এলাকায় ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের। বাড়ির ভিটা আর মাঠের ফসল ভেসে যাওয়ার পর শেষ সম্বল গবাদি পশু নিয়ে এখন কৃষকরা রয়েছে দুর্ভাবনায়। বন্যার পানি নামতে আরো সময় লাগবে।নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানে থাকার পরও কারও পালিয়ে যাওয়াটা বেশ উদ্বেগজনকআমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানে থাকার পরও কারও পালিয়ে যাওয়াটা বেশ উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। এছাড়াও সারাদেশের সকল মানুষের মাঝেই আমরা একটা সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করেছি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা পাঁচ জন জঙ্গির ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং ভারতের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করাই হচ্ছে আমাদের আকাক্সক্ষা। আমি আশা করি যে ভারত খুব দ্রুতই তা করবে।গত ৩০ জুলাই শনিবার রাতে চ্যানেল আই এর আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।সুজন সম্পাদক বলেন, অতীতে আমাদের বিশ্বাস ছিল এদেশে কোন জঙ্গিবাদ নেই। আমাদের যে সংস্কৃতি তাতে কখনও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হবে না। এখন আমাদের এ ভুল ভেঙ্গেছে। অনেকগুলো ঘটনা ঘটছে যা আগে কখনও ঘটেনি। এক সময় আমাদের বিশ্বাস ছিল যারা মাদ্রাসায় পড়ে, গরিব ও দরিদ্র তারাই শুধু জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বিষয়টা এমন না। বরং উচ্চ শিক্ষিত ও ধনীদের ছেলেরাও জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত। এখন তো জঙ্গিবাদের সাথে নারীরাও যুক্ত হচ্ছে।বদিউল আলম আরও বলেন, আমি আশা করব জঙ্গিবাদ ইস্যুটিকে আমাদের রাজনীতিবিদরা আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। এটা যে একটা গুরুতর বিষয় এই বিষয়টা বিবেচনা করেই তারা কার্যক্রম হাতে নিবেন।আমরা এক হতে পারলে জঙ্গিবাদ সমূলে উৎপাটন করতে পারববাংলাদেশের সকল মানুষের ভাষা এক। এছাড়া সমগ্র বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও এক। এখানে কোন প্রকার ভিন্নতা নেই। যার ফলে আমরা একে অপরের সাথে এতোটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। আমাদের জীবনে তিনটি অনুষ্ঠানকে একতার সাথে মেনে নিয়েছি আর তা হলো দুটি ঈদ আর একটি দুর্গাপূজা। এটাই বাঙালি জাতির একতাবদ্ধ হওয়ার মূল কারণ। পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলা আছে, যার যার ধর্ম তার তার কাছে।গত ১ আগস্ট সোমবার রাতে চ্যানেল আই-এর আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন সামাজিক সচেতনাতামূলক কর্মকাণ্ডের সংগঠক স্থপতি মুবাশ্বের হোসেন।মুবাশ্বের হোসেন বলেন, আমাদের বাংলাদেশ এখন পরীক্ষিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাঙালি জাতির মাঝে যে চেতনা ও মানবিক গুণ রয়েছে সেটা যদি আমরা সঠিকভাবে সঠিক খাতে ব্যবহার করতে পারি তাহলে বাঙালি জাতি পারে না এমন কিছু নেই। আমরা যদি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে পারি তাহলে বিশ্বের কোথাও থেকে জঙ্গিবাদ সরানো না গেলেও বাঙালি বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদকে সমূলে উৎপাটন করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ মানুষ যারা কোন দিন অস্ত্র চোখে দেখে নাই তারাই কিন্তু রুখে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বের একটি শ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে কথাটি বলেছেন, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে এই জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করি এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে পারি তাহলে বিশ্বের কোথাও থেকে জঙ্গিবাদ সরানো না গেলেও বাঙালি বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদকে সমূলে উৎপাটন করতে পারবে।ভারত আমাদের পাশে আছে এবং সবসময় থাকবেজঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ দমনে আমরা একা নই, ভারত আমাদের পাশে আছে এবং সবসময় থাকবে। সম্প্রতি ভারত সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই আশ্বাস দিয়েছেন।গত ৩১ জুলাই রোববার এটিএন নিউজের নিয়মিত অনুষ্ঠান নিউজ আওয়ার এক্সট্রায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল একথা বলেন।আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়রা বলেছেন যে আগস্ট মাসে হামলা হতে পারে। এই কথা মন্ত্রী মহোদয় তার ধারণা থেকে বলতে পারেন। তারপরও আমরা যদি আগস্ট মাসের দিকে তাকাই দেখতে পাব এই মাসে অনেকগুলো হামলা হয়েছে, অনেকগুলো হত্যা প্রচেষ্টা হয়েছে। ২১ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার প্রচেষ্টা নিয়েছিল। ১৭ আগস্ট একযোগে ৬৩টা জেলায় বোমা বিস্ফোরণ করেছে জঙ্গিরা। আবার আমরা দেখেছি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারকে একসাথে হত্যা করা হয়েছে। এই সব ঘটনাই আগস্ট মাসে ঘটেছে।তিনি আরো বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় আবার কিছু করতে পারে কি? হয়ত অনেকে অনুমান করছেন। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে সেটা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। হামলার কোন সম্ভাবনা থাকলে সেটা আমরা উড়িয়ে ফেলে দিচ্ছি না। কাজ করছে আমাদের গোয়েন্দা বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। আমরা যে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবেলা করে সাফল্য অর্জন করেছি । আমরা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব এবং পেরেছি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল পোর্ট ভিডিও কনফারেন্সের উদ্বোধনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের পাশে আছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন যে জঙ্গি দমনে তিনি একা নন। নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমরা আপনার পাশে সবসময় আছি জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে। এই কথাগুলোই সম্প্রতি আমার ভারত সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন।বর্তমানে আমাদের সমাজে কোন হিরো বা রোল মডেল নেইবর্তমানে আমাদের সমাজে কোন হিরো বা রোল মডেল না থাকায় জঙ্গিরা কোন অপারেশন করার আগে  হাসিমাখা ছবি পোস্ট করে নিজেদের হিরো প্রমাণ করতে চায়।গত ৩০ জুলাই শনিবার ফারজানা রুপার সঞ্চালনায় একাত্তর টেলিভশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘একাত্তর জার্নালে’ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল একথা বলেন।মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, তরুণদের জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার জন্য আসলে একটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার কাজ করে। জঙ্গিদের ছবি তোলার মধ্যে একটা রোমান্টিসিজম বা বীরত্বপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ পায়। বর্তমানে আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে কোন হিরো নেই। অর্থাৎ সমাজে যে একটা রোল মডেল থাকে, সেটা নেই। অনেক শিক্ষকদের মধ্যে একজন রোল মডেল থাকে। তেমনিভাবে সমাজ কর্মী বা রাজনীতিবিদের মধ্যে থেকেও কেউ কেউ রোল মডেল হয়ে উঠে আসে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এরকম বড় রোল মডেল আমাদের সমাজে দেখা যায় না।তিনি আরও বলেন, আমার ধারণা জঙ্গিরা এটা করে তাদের মধ্যে একটা হিরোয়িক ভাব নিয়ে আসতে চায়। তারা নির্দ্বিধায় বলে এই জীবন তাদের দরকার নেই। তারা বেহেশতে চলে যাচ্ছে। তার আগে একটা ছবি তুলে গেল। জঙ্গিরা বুঝালো যে এটা করে তারা অনেক খুশি। তরুণদের আকৃষ্ট করে জঙ্গি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি মহল এইসব ছবি পোস্ট করে। জঙ্গিরা অপারেশন চালানোর আগে কেন এমন হাসিমাখা ছবি তুলে এই ব্যাপারটা সমাজতাত্ত্বিক বা মনস্তাত্ত্বিকরা আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবেন।সঙ্কট উত্তরণের জন্য দরকার শক্ত একটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীআমাদের দেশে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ আগেও ছিল কিন্তু বর্তমানে সময়ে জঙ্গিবাদ আগের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। তাই আমরা একটু ভীত হয়ে পড়েছি।প্রভাষ আমিনের সঞ্চালনায় গত ২৭ জুলাই এটিএন নিউজের নিয়মিত আয়োজন নিউজ আওয়ার এক্সট্রাতে ‘জঙ্গিবাদের ভয়, শুধু বাংলাদেশে নয়’ বিষয়ক আলোচনায় সমাজতাত্ত্বিক ও গবেষক ড. সলিমুল্লাহ খান একথা বলেন। এছাড়া ছিলেন আর্ন্তজাতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিক মোহাম্মদ জমির।সলিমুল্লাহ খান বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ শুধু বাংলাদেশের একটা সমস্যা নয়। সন্ত্রাসের ঘটনা সারাবিশ্বে প্রতিদিনই ঘটছে। আমরা নানান রকম সন্ত্রাসের কথা শুনেছি। একটা হলো গিয়ে প্যাথোলোজিক্যাল টেরর। সম্প্রতি জাপানে প্রতিবন্ধী একটা শিবিরে যে হামলা হয়েছে এটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নাৎসি জাপানীরা বলেছিল, যারা প্রতিবন্ধী তাদের মেরে ফেল। তাদের বেঁচে থাকার কোন দরকার নাই। সেই দর্শন বহু মানুষকে প্রভাবিত করে। মার্কিনীদের সমস্যা স্বতন্ত্র। যেখানেই মানবধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে সেখানেই তারা হস্তক্ষেপ করতে চান। অন্যের দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে কি-না তা দেখার আগে মার্কিনীদের দেখতে হবে তার নিজের দেশে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে কি-না। নিজ দেশের মানবাধিকার ঠিক করেছে কি-না সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। মার্কিনিদের কৃষাঙ্গ সমস্যা এখনও আছে। এখনও তাদের সমাজের মূল কাঠামো আগের মতই আছে যেটা বদলায়নি। আমার আবেদন সব কিছু গুলিয়ে না ফেলা।তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একটা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। হয়ত বিপদের দিনে মানুষ উত্তেজনায় ভোগে সেটা আমরা বুঝতে পারি। তা দিয়ে চিন্তা করা যাবে না। চিন্তার জন্য দৃঢ়তা দরকার। বিপদের সময় যে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে সে সঠিক চিন্তা করতে পারে না।সলিমুল্লাহ খান আরও বলেন, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের সমস্যা ভারতেও আছে। তাদের কাশ্মির সমস্যা একটা স্বতন্ত্র সমস্যা। আমাদের দেশ নিয়ে মানুষ বেশি আশা করে কারণ আমাদের দেশ শান্তির দেশ । স্বাধীনতার পরে সন্ত্রাসের পরিমাণ কখনো বাড়েনি। বিএনপির সময় দেখেছিলাম একযোগে জেএমবি ৬৩ জেলায় বোমাফাটায়। এখন জঙ্গিবাদটা যে মাত্রায় পৌঁছেছে সেটা আগের মাত্রাগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। তাই সবাই একটু ভীত। আর বিদেশীরা মাথা ঘামাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে তারা আমাদের দেশে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। কারণ আমাদের এখনও সামর্থ্য হয়ে উঠেনি তাদের মোকাবেলার।তিনি বলেন, সঙ্কট কখনো স্থায়ী হয় না। এখন আমাদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য দরকার শক্ত একটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলা এবং রাজনীতিক দলগুলোকে মীমাংসায় যেতে হবে।বিনিয়োগকারীদের জঙ্গিবাদী হামলায় ভয় পাওয়া অমূলকজঙ্গিবাদী হামলায় ভয় পাওয়া এবং এই হামলার ভয়ে বিনিয়োগকারীদের চলে যাওয়া অমূলক। একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন, পৃথিবীর কোন দেশেই বা তারা খুব ভালো অবস্থায় আছে! তারা তো শুধু এইটুকু দেখবে যে কোন দেশে কম দামে তারা মাল পাচ্ছে। বাংলাদেশে হাজার হাজার চাইনিজ, ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং শ্রীলংকান আছে। এই চারটা দেশের লোক বিনিয়োগের সাথে বেশি জড়িত আর এরা ভয় পাওয়ার লোক না। এছাড়া পৃথিবীটা তো চলছেই ব্যবসার উপরে। তো এরা ব্যবসা ছেড়ে যাবেটা কোথায়? গত ২ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে চ্যানেল আই-এর আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন সাংবাদিক, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফসান চৌধুরী।তিনি আরো বলেন, গুলশান হামলার পর থেকে পুলিশ অনেকটাই সক্রিয়। আর তাদের বড় সাফল্য হলো শোলাকিয়ায় তারা হামলার আগেই জেনে গিয়েছিল এবং সেখানকার হামলা তারা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছিল। অবশ্য বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ই কোন না কোন দুর্যোগের মাঝেই থাকে। এই বিষয়াটা যদি আমাদের সরকার বুঝতে পারতেন তাহলে আরো ভালো হতো। সাধারণ মানুষের মাঝে ক্রমেই এই ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে যে গুলশানকে রক্ষা করার জন্য, বিনিয়োগকারীকে রক্ষা করার জন্য এতো আয়োজন হলে অন্য দিকেও কিছুটা আয়োজন থাকা প্রয়োজন।আফসান চৌধুরী আরো বলেন, আমি যখন দুর্যোগ নিয়ে কাজ করতাম তখন দেখতাম ৮-১০ বছর পর পর দুর্যোগের সাইকেলটা হত। এখন এটা কমে ছয় বছরে চলে এসেছে। এছাড়াও এটার সাথে অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। আর বন্যা হওয়াটা খারাপ সংবাদ না, বন্যার পানি যদি আটকে থাকে তাহলে সেটা হলো খারাপ সংবাদ।

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com