সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

২০ দলীয় জোটকে আড়ালে রেখে

জাতীয় ঐক্য!

॥ জামশেদ মেহেদী ॥
অধ্যাপক এমাজউদ্দিন কার হয়ে কাজ করছেন? বিএনপি ২০ দলীয় জোট? সামগ্রিকভাবে বিরোধী দলের  নাকি সরকারের এজেন্ট? আমি জানি, আমার এই শেষের বাক্যটি অত্যন্ত কঠোর। কিন্তু তার পরেও এই সন্দেহ প্রকাশ করতে বাধ্য হলাম। কারণ বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছিলেন সেই ডাক বা আহ্বান নিয়ে যদিও এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বের, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে অবস্থানরত দুই ব্যক্তি মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহ নিয়ে ছোটা ছুটি শুরু করেছেন। এদের একজন হলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং অপরজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ। এদের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দেখা গেল বাম ঘরানার রাজনৈতি দল ও নেতাদের কাছে আশা যাওয়া করতে। এই বাম ঘরানার লোকজন হচ্ছেন সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং জাসদের আ স ম আবদুর রব। বাম ঘরানার নন, তবে সেক্যুলার পলিটিশিয়ান কাদের সিদ্দিকীর কাছেও তিনি যান। দেশে না থাকায় ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মাহি বি চৌধুরীর সাথে তিনি কথা বলতে পারেননি। তবে ড. কামাল হোসেনের সাথে কথা বলেছেন। এমাজউদ্দিন এবং জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথাবার্তার মাঝে অপ্রাসঙ্গিকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে টেনে এনেছেন এবং শুধু টেনে আনা নয়, ২০ দলকে বেগম জিয়ার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকেই শুধু বাদ দেওয়াই নয়, ২০ দলীয় ঐক্য জোটকেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। জামায়াত এবং জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থী মহল বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে এমাজউদ্দিন এবং জাফরুল্লার ২০ দলীয় জোট বিরোধী চক্রান্ত এতদিন নীরবে অবলোকন করে গেছেন। এখনো তাই করছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, অধ্যাপক এমাজউদ্দিনের চক্রান্ত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ বিএনপি থেকেই তার এসব উক্তি এবং উদ্যোগের প্রতিবাদ এবং ক্ষোভ প্রকাশিত হচ্ছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে এমাজউদ্দিনের বিষোদগারঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়া ২০ দলের মধ্যে জামায়াতকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই দলটি এখন বোঝা। দেশে এখন যে অবস্থা যাচ্ছে, তাতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। গত ২ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এমাজউদ্দিন এসব কথা বলেন। এমাজউদ্দিন আহমেদ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা একটি রাজনৈতিক দল। সরকার চাইলে যেকোনো মুহূর্তে ওই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ২০ দলের মধ্যে এ দলটিকে আর রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন বলেন, ‘ইট হ্যাজ বিকাম এ লায়াবিলিটি (দায়)। এটা বর্তমানে অ্যাসেট না।’ বর্তমানে জামায়াতের অধিকাংশ নেতার জন্ম একাত্তরের পর। তাদেরও চিন্তাভাবনা করা উচিত, জাতীয় ঐক্য যদি তাদের কারণে ব্যর্থ হয়, সেটা তারাই বা চাইবেন কেন?কাদের সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একাংশ (ইনুর জাসদ) ও জামায়াতে ইসলামী বাদে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের কোনো নেতাকর্মী আসেননি। অর্থাৎ তারা এমাজউদ্দিন ও জাফরুল্লার ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকছেন। 
গত ৩ আগস্ট বুধবার ‘ডেইলি স্টারে’ প্রকাশিত খবর মোতাবেক অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে জাতীয় ঐক্যের পথে প্রধান বাধা সৃষ্টি করছে জামায়াতে ইসলামী। সে কারণেই বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং ২০ দলীয় জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতকে ঐক্য প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমাজউদ্দিনের জ্ঞান দানএমাজউদ্দিন বলেছেন যে সরকার চাইলেই তো যখন ইচ্ছা তখন এই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে। তার এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে তিনি মনেপ্রাণে চাইছেন সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করুক। ভাবতে অবাক লাগে যে যেখানে সিপিবিসহ সেক্যুলার, বামপন্থী ও ভারতপন্থী মহল আন্তরিকভাবে চাইছে যে জামায়াত নিষিদ্ধ হোক, সেখানে এমাজউদ্দিনও একই সুরে সেই গান গাইছেন। সেই জন্যই শুরুতেই প্রশ্ন উঠেছে যে বিএনপি ঘরানায় থাকলেও এমাজউদ্দিন আসলে কাদের হয়ে কাজ করছেন? দেখা যাচ্ছে যে এমাজউদ্দিন এখনো ছাত্রদের উদ্দেশে লেকচার দেওয়ার অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। একাত্তরের পর যাদের জন্ম তারাও কিন্তু জামায়াতের ওপর সরকারের প্রচণ্ড দমননীতির তীব্র বিরোধিতা করছেন। সেদিকে এমাজউদ্দিন যাননি। তিনি ঐ কথার মাধ্যমে কূটচাল দিয়েছেন যে ছাত্র শিবির যেন জামায়াত থেকে আলাদা হয়। তবে তিনি ভুলে গেছেন যে শকুনের অভিশাপে গরু মরে না। একাত্তরের মতো ঐক্য৩ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ মোতাবেক এমাজউদ্দিন বলেছেন যে ১৯৭১ সালের মতো ঐক্য গড়তে হবে। ঐ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কয়েক দিন আগে যখন দিল্লি সফরে যান তখন তিনি ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করেন। নরেন্দ্র মোদিও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন যে একাত্তর সালের মতো ভারত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পাশে থাকবে। একাত্তর নিয়ে নরেন্দ্র মোদি এবং এমাজউদ্দিনের কথায় কি অদ্ভূত মিল! বিজেপি নেতা এবং বিএনপি সুশীলের মধ্যে মনে হয় বিনিসুতার মালা গাঁথা রয়েছে।কেন ১৪ দল আসেনি?যে সভায় এমাজউদ্দিন জামায়াতকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন সেটি ছিল কাদের সিদ্দিকীর সভা। কাদের সিদ্দিকী ঐ সভাতে জানিয়েছেন যে, তিনি জামায়াত এবং জাসদের ইনু উপদল ছাড়া আর সকলকে ঐ সভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারপন্থী ১৪ দলের কেউই ঐ সভায় আসেনি। সরকারের বাইরে রয়েছে সিপিবি এবং বাসদ। তারাও আসেনি। তাহলে এমাজউদ্দিন এবং জাফরুল্লাহ যে ঐক্য ঐক্য করে দৌড় ঝাঁপ করছেন সেই জাতীয় ঐক্য কি আওয়ামী লীগ, সিপিবি, বাসদ, জাতীয় পার্টি, মেনন, ইনু এদের ছাড়া হতে পারে? এমাজউদ্দিন সাহেব এই দিকটা কি একবারও ভেবে দেখেছেন। যে ঐক্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, ইসালামী ঐক্য জোট, সিপিবি, বাসদ প্রভৃতি দল থাকবে না সেটি বৃহত্তর ঐক্য তো দূরের কথা, জাতীয় ঐক্য নামে কি সেটিকে অভিহিত করা যেতে পারে? বিএনপির কলিজায় হাত দিয়েছেনজাফরুল্লাহ ও কাদের সিদ্দিকীকাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে নয়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করব। কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বলব- আপনার ছেলে তারেক জিয়াকে বলবেন, জিয়াউর রহমান দেশের ১ নম্বর প্রেসিডেন্ট নয়, ৭ নম্বর প্রেসিডেন্ট। বলব, বঙ্গবন্ধু পাকবন্ধু নয়, তিনি বাংলাদেশের বন্ধু। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছাড়া জিয়াউর রহমান শূন্য। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে একবার সাক্ষাতে তিনি বলেছিলেন, ১৫ আগস্ট আপনি কিছুতেই জন্মদিন পালন করতে পারেন না। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। আপনি, আপনার দল এমনকি জামায়াতে ইসলামীরও এ দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা উচিত। ওই সময় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আমি ওইদিন জন্মদিন পালন করতে চাইনি, নেতাকর্মীদের চাপে ওইদিন জন্মদিন পালন করতে হয়। কতগুলো মৌলিক ইস্যুতে, কতগুলো মৌলিক রাজনৈতিক আদর্শে, একটি রাজনৈতিক দল অটল থাকে। এই সব আদর্শ, এই সব ইস্যু কোনদিন পরিবর্তিত হয় না। দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে অথবা প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর সংশোধন হতে পারে। কিন্তু মৌলিক ইস্যুতে কোন পরিবর্তন করলে তাহলে আর সেই রাজনৈতিক দলের স্বকীয়তা থাকে না। কাদের সিদ্দিকী বা জাফরুল্লাহরা ৩৩ বছর পর বিএনপির মাথায় নতুন আদর্শ ঢুকাবার চেষ্টা করছেন। দেশের মানুষ দেখছেন, কাদের সিদ্দিকী, জাফরুল্লাহ বা এমাজ উদ্দিনের বটিকা বিএনপি নেতারা কতদূর গলাধকরণ করেন। বিএনপি নেতারা হতভম্বকাদের সিদ্দিকীর সভায় এমাজউদ্দিনের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক মহল তো বটেই, খোদ বিএনপির সিনিয়র নেতারাই বিস্মিত হয়েছেন। এমাজউদ্দীন আহমেদের এই বক্তব্যের পর বিস্মিত হয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতাই। তাঁরা বলেছেন, এই বক্তব্য ২০-দলীয় জোটে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি করবে। নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়বেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন না এমন সিদ্ধান্ত কোথায় হলো। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ২০-দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হলে তো তিনি জানতেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেছেন, একটি সিদ্ধান্তের বিষয় তাঁর জানা আছে। সেটি হলো, জাতীয় ঐক্যে ২০-দলীয় জোটের শরিকদের কাউকেই রাখা হবে না, কেবল জামায়াতকে নয়। তা ছাড়া ২০-দলীয় জোট আপাতত অকার্যকর থাকবে। কিন্তু সেটি ভেঙে দেওয়া হবে না বা সেখান থেকে জামায়াতকে বের করে দেওয়া হবে না। ঐক্য আলোচনার সময় ২০ দলকে অনেকটা আড়ালে রাখা হবে। মূলত এর উদ্দেশ্য জামায়াতকে দূরে রাখা। হতে পারে, এমাজউদ্দিন আহমেদ সম্ভবত এটাই বলতে চেয়েছিলেন।বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দবিএনপির স্থায়ী কমিটির  প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পত্রিকান্তরে বলেন, জামায়াতকে জোটে না রাখার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি-না তা তিনি জানেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য লে, জে, মাহবুবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ। তবে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ জামায়াত  প্রসঙ্গে যেটি বলেছেন সে রকম কোন সিদ্ধান্ত হলে তিনি জানতেন। এছাড়া ম্যাডাম যদি সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে তো নিজেই জানাতেন।স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ বলেন, জামায়াতকে নিয়ে দলের এমন অবস্থানের কথা আমার জানা নেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি (এমাজউদ্দিন) বিএনপির কেউ নন। তিনি এটা বলতে পারেন না। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তিনি (এমাজউদ্দিন) কী বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দলীয় পর্যায়ে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তাই কিভাবে এমাজউদ্দিন সাহেব এটি বললেন সেটি তো বুঝতে পারছি না। এছাড়া যদি এমন সিদ্ধান্ত হয়ও সেটিওতো উনার জানার কথা নয়। যারা এমন সিদ্ধান্ত জানার এবং বলার তারাই বলবেন। আলাল বলেন, আগ বাড়িয়ে উনার মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য কারোরই কাম্য হতে পারে না। তিনি বলেন, এমন কোন পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি যাতে জামায়াতকে জোট থেকে আলাদা করতে হবে। এছাড়া জামায়াতকে জোট থেকে আলাদা করলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে সেটিও নয়। তিনি জানান, এটি একটি পলিটিক্যাল গেইম হতে পারে। তার অংশ হিসেবেই এমাজউদ্দিন সাহেব এমন কথা বলেছেন। এই পলিটিক্যাল গেইমের ভার কেন বিএনপি তার কাঁধে নিবে।জামায়াতের বক্তব্যদীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এসব ব্যাপারে জামায়াত তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছে। অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদের বক্তব্য  প্রচারের পর জামায়াত একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক এমাজউদ্দিনকে তাঁর বক্তব্য  প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলেছে, অন্যথায় জনগণ ধরে নিতে বাধ্য হবে যে তিনি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আলো ও অন্ধকারের খেলায় লিপ্ত রয়েছেন। ওই বিবৃতিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ২০-দলীয় জোট এমাজউদ্দিন আহমেদকে মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেয়নি। জোটের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলার অধিকার তাঁর নেই। তিনি সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত ও অযাচিত আচরণ করছেন। এর জন্য অবশ্যই তাঁকে তাঁর বক্তব্য  প্রত্যাহার করতে হবে। বিবৃতিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অযাচিত ও এখতিয়ারবহির্ভূত বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য এমাজউদ্দিন আহমেদের  প্রতি আহ্বান জানানো হয়।এ কেমন জাতীয় ঐক্য? বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে প্রস্তাবিত জাতীয় ঐক্যে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের কাউকেই রাখা হবে না, কেবল জামায়াতকে নয়। তা ছাড়া ২০ দলীয় জোট আপাতত অকার্যকর থাকবে। কিন্তু সেটি ভেঙে দেওয়া হবে না বা সেখান থেকে জামায়াতকে বের করে দেওয়া হবে না। ঐক্য আলোচনার সময় ২০ দলকে অনেকটা আড়ালে রাখা হবে। এ ব্যাপারে পর্যবেক্ষক মহল বলেন যে ২০ দলীয় জোটকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কাদের সিদ্দিকী, বি চৌধুরী এবং আ স ম আবদুর রবকে নিয়ে যে ঐক্য গঠিত হবে সেটি জাতীয় ঐক্য হয় কিভাবে? কারণ ড. কামাল হোসেনও এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় আসবেন না বলে শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল এবং সিপিবি, বাসদ, জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোট বাইরে থাকলে সেটি দুই চার দলীয় জোট হতে পারে, কিন্তু কোন অবস্থাতেই সেটি জাতীয় ঐক্য হবে না। Email: jamshedmehdi15@gmail.com

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com